নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়া থেকে রফতানি কমলেও পণ্যটির দাম সেভাবে বাড়েনি। বরং ডলারের শক্তিশালী বিনিময় হার, চীনের দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্য ও বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত সরবরাহের চাপ পণ্যটির বাজারকে করে রেখেছে নিম্নমুখী। আগের দুই মাসের ধারা বজায় রেখে সদ্য সমাপ্ত অক্টোবরও নিম্নমুখিতায় পার করল জ্বালানি তেলের বাজার। গতকাল শেষ হওয়া মাসটিতে বিভিন্ন বাজার আদর্শে পণ্যটির দাম কমেছে ৩ শতাংশের কাছাকাছি। খবর রয়টার্স।
বাজারে গতকালও জ্বালানি তেলের দাম ছিল পড়তির দিকে। পণ্যটির আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল কমেছে ব্যারেলে ৩৮ সেন্ট বা দশমিক ৬ শতাংশ। প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছেছে ৬৪ ডলার ৬২ সেন্টে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার ১৯ সেন্টে। এটি আগের দিনের তুলনায় ব্যারেলে ৩৮ সেন্ট বা দশমিক ৬ শতাংশ কম।
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক এএনজেড ব্যাংকের বিশ্লেষকরা বলেন, ‘ডলারের শক্তিশালী বিনিময় হার পুরো পণ্যবাজারে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল বুধবার জানান, ফেডের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সুদহার নাও কমানো হতে পারে। তার বক্তব্যের পর ডলারের বিনিময় হার আরো শক্তিশালী হয়। যার প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য পণ্যের দামে।
চীনের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্যও জ্বালানি তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। চীনা সরকারের জরিপ তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে দেশটির কারখানা কার্যক্রম টানা সপ্তম মাসের মতো সংকুচিত হয়েছে। এতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির জ্বালানি চাহিদা কমতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহও বেড়েছে। পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক ও রাশিয়াসহ অন্যান্য সহযোগী দেশ নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাস চলতি বছর বাজার হিস্যা ধরে রাখতে ধারাবাহিকভাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন বাড়িয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটি ডিসেম্বর মাসে সীমিত আকারে উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। গত কয়েক দফায় ওপেক প্লাস দেশগুলো দৈনিক প্রায় ২৭ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়িয়েছে, যা বিশ্বের মোট সরবরাহের প্রায় আড়াই শতাংশ।
এদিকে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রফতানি আগস্টে পৌঁছেছে প্রতিদিন ৬৪ লাখ ৭ হাজার ব্যারেলে, যা ছয় মাসে সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রেও দৈনিক উত্তোলন বেড়ে রেকর্ড ১ কোটি ৩৬ লাখ ব্যারেল দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কেনার প্রক্রিয়া শুরু করতে সম্মত হয়েছে চীন এবং এতে আলাস্কায় উত্তোলিত জ্বালানি তেল ও গ্যাসও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বার্কলেসের বিশ্লেষক মাইকেল ম্যাকলিন বলেন, ‘আলাস্কার উত্তোলন যুক্তরাষ্ট্রের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মাত্র ৩ শতাংশ। তাই চীনের ক্রয়চুক্তি জ্বালানি তেলের বাজারে তেমন কোনো বড় প্রভাব ফেলবে না।’